|

বাঘা শাহী মসজিদে আমার প্রথম ভ্রমণ

বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা করার সময় আমার প্রথমবার বাঘা শাহী মসজিদ ভ্রমণ করা। ঠিক কোন তারিখে গিয়েছিলাম, সেটা আজ আর মনে নেই। তবে সময়টা ছিল সম্ভবত ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে কোনো এক বছর

তখন আমি মেসে থাকতাম। মাসের শুরুর দিকে টাকা পেয়েছিলাম। সেই সময় নিজের ইচ্ছাতেই একদিন দুপুরের পর বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে বের হয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে কোনো বন্ধু বা পরিচিত কেউ ছিল না—আমি একাই গিয়েছিলাম।

ছাত্রজীবনে একা একা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার মধ্যে আলাদা একটা অনুভূতি ছিল। হাতে খুব বেশি টাকা ছিল না, তারপরও ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি নিজের চোখে দেখার ইচ্ছাটা পূরণ করতে চেয়েছিলাম। তখন হয়তো ভাবিনি, বহু বছর পর এই ছোট্ট ভ্রমণের কথাগুলোও আমার কাছে এতটা স্মৃতিময় হয়ে থাকবে।

বাঘা শাহী মসজিদ ঘুরে দেখার পর ফেরার সময়ই শুরু হয় আসল বিড়ম্বনা। তখন এখনকার মতো সহজে গাড়ি পাওয়া যেত না। ফেরার পথে গাড়ি না পেয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সিএনজিতে করে ফিরেছিলাম

ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। রাতের পথ, চারপাশের পরিবেশ—সব মিলিয়ে মনে একটু ভয়ও কাজ করছিল। একা মানুষ, তার ওপর অনেক রাত হয়ে গেছে। তারপরও সেই ভয়কে পাশে রেখেই বাড়ির পথে চলে এসেছিলাম। এখন মনে হলে সেই সময়ের নিজের ওপর একটু অবাকই লাগে—ভয় পেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু ফিরে আসার চেষ্টা থামাইনি।

আমার পরিবার অবশ্য ঘোরাঘুরির ব্যাপারে কখনো আমাকে নিষেধ করেনি। বরং জীবনে আরও অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছা আমার সবসময়ই ছিল এবং এখনো আছে। দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, দর্শনীয় জায়গা এবং নতুন নতুন পরিবেশ নিজের চোখে দেখার একটা আলাদা আগ্রহ আমার মধ্যে সবসময় কাজ করে।

কিন্তু জীবনের ব্যস্ততা, কাজ এবং নানা দায়িত্বের কারণে এখন আর আগের মতো ঘুরে বেড়ানো হয়ে ওঠে না। তবুও ইচ্ছেটা এখনো আছে। সুযোগ পেলেই চেষ্টা করি কোথাও না কোথাও ঘুরে আসতে।

পেছনে ফিরে তাকালে বাঘা শাহী মসজিদের সেই ভ্রমণটিকে আমার কাছে শুধু একটি দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ মনে হয় না। এটি আমার ছাত্রজীবনের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি—মাসের শুরুতে পাওয়া টাকা, মেসের জীবন, দুপুরের পর একা রওনা হওয়া, ঐতিহাসিক মসজিদ দেখা, ফেরার পথে গাড়ির জন্য ভোগান্তি, সিএনজিতে করে গভীর রাতে ফেরা এবং পথে সামান্য ভয় পাওয়া—সবকিছু মিলিয়ে সেই দিনের গল্পটি আজও মনে আছে।

ঠিক কোন তারিখ ছিল, সেটা মনে নেই। কিন্তু সেই দিনের অনুভূতিটা এখনো মনে আছে।

আর হয়তো ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর দিকটিই এটাই—কোথায় গিয়েছিলাম, কখন গিয়েছিলাম, কত টাকা খরচ হয়েছিল—এসব অনেক কিছুই একসময় ভুলে যাই; কিন্তু কোনো কোনো ভ্রমণের অনুভূতিটা থেকে যায় অনেক বছর।

ছবি সংগ্রহঃ wikipedia

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *