বগুড়ার ভ্রমন একটা অসমাপ্তির ভ্রমন কথা

বগুড়ার ভ্রমণের গল্পটা শুরু হয়েছিল সাব্বির, রুমন আর দেলোয়ারের সঙ্গে মাঠে বসে কথাবার্তার সময়। মূল উদ্দেশ্য ছিল মহাস্থানগড় দেখা, সঙ্গে আরও দুই-একটা জায়গা ঘুরে দেখা। ওরা সবাই তাদের পরিবার নিয়ে যাবে—আমাকেও বলল, আমিও রাজি হয়ে গেলাম। রুমন মাইক্রো ভাড়া করেছে, সব প্রস্তুত।

২৫ তারিখ সকালে মোহনপুর থেকে রওনা হওয়ার কথা। তাই আগের রাতেই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম—কারণ সকালে উঠতে হবে, যেতে হবে।

সকালে রেডি হয়ে মোহনপুরে পৌঁছে দেলোয়ারকে ফোন দিলাম। দেলোয়ার আর তার স্ত্রী মোটামুটি ঠিক সময়েই এসে গেল। আমাদের রওনা হওয়ার কথা ছিল সকাল ৮টার দিকে—কিন্তু ‘বাংগালি সময় বলে কথা’, তাই একটু দেরি হবেই। সাব্বির তার পরিবার নিয়ে আসতে একটু দেরি করল, তবে রুমন ঠিক সময়েই গাড়ি নিয়ে হাজির। এর মধ্যেই সবাই চা খেয়ে নিলাম।

এই তিনজন—সাব্বির, রুমন, দেলোয়ার—আমার স্কুলজীবনের বন্ধু। এখনো মাঝে-মধ্যে ওরাই খোঁজখবর নেয়। তাই ভ্রমণের আনন্দটাও আলাদা।

রওনা এবং দুপুরের পরিকল্পনা বদল

আমরা রাজশাহী থেকে নওগাঁ হয়ে বগুড়ার পথে রওনা দিলাম। মাঝপথে সিদ্ধান্ত হলো—সরাসরি মহাস্থানগড়ে না গিয়ে আগে মমিন ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে দুপুরের খাবার খাবো। প্রচণ্ড গরম, বাচ্চারাও ছিল, তাই সবাই একমত হলাম যে আগে একটু বিশ্রাম নিয়ে খেয়ে তারপর বের হওয়া ভালো।

খাওয়াদাওয়া শেষে প্রায় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আমরা মহাস্থানগড়ের পথে রওনা দিলাম।

মহাস্থানগড় ভ্রমণ

মমিন থেকে মহাস্থানগড়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগে না। তবে সেখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় আসর আজান দিয়েছিল । আমরা প্রথমে জাদুঘরে যাই—পুরনো সব নিদর্শন দেখে বেশ ভালো লাগল।টেরাকোটা, মুদ্রা, খননের বিভিন্ন জিনিস—সবকিছুই এক অনন্য অনুভূতি তৈরি করছিল।

জাদুঘর থেকে বের হয়ে গোবিন্দভিটা ঘুরে দেখলাম। সবাই মিলে ছবি তোলা হলো।

দুঃখজনক হলেও সত্য—সময় স্বল্পতার কারণে পুরো মহাস্থানগড় ঘুরে দেখা হলো না। জায়গাটা বিশাল, ইতিহাস সমৃদ্ধ, কিন্তু দিনের আলো আর সময় দুই-ই ছিল কম।

চারমাথা, দই এবং এক অপূর্ণতা

মহাস্থানগড় থেকে ফিরে আমরা বগুড়া চারমাথায় গিয়ে রাতের খাবার খেলাম। খাবারের পর মিষ্টান্ন হিসেবে অবশ্যই বগুড়ার বিখ্যাত দই খেলাম—স্বাদ ছিল দারুণ।

তবে একটা জিনিস মিস করেছি—মহাস্থানগড়ের ঐতিহ্যবাহী কটকটি। নিতে পারিনি, আর ফেরার সময়ও আর সুযোগ হলো না।

আরও একটি বিষয়ে খেয়াল হলো—মহাস্থানগড়টি একটি নদীর উপনদীর পাশে অবস্থিত, আর পুরো এলাকাটিই অত্যন্ত প্রাচীন স্থাপনা। ইতিহাসের ওজন যেন চারপাশে অনুভূত হতো।

ভ্রমণের অনুভূতি

ভ্রমণটা ভালো লেগেছে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোও দারুণ ছিল—তবুও মনটা একদম ভরল না। মহাস্থানগড় পুরোটা ঘুরে দেখতে পারিনি—এই অপূর্ণতাই সবচেয়ে বেশি লাগছে। সময় থাকলে পুরো এলাকাটা ঘুরে দেখার একটা আলাদা তৃপ্তি পেতাম।

Similar Posts

  • আল-আমান বাহেলা খাতুন মসজিদ

     আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ (Al-Aman Bahela Khatun Jame Mosque) সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ০৮ নং ওয়ার্ডের মুকন্দগাঁতি মহল্লায় সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত । ইতিহাসঃ মসজিদটি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ও বৃহৎ মসজিদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মুকুন্দগাতী গ্রামের মোহাম্মদ আলী সরকার তার ছেলে আল-আমান ও মা বহেলা খাতুনের নামে বেলকুচির আল-আমান…

  • ই-পাসপোর্ট: আবেদন প্রক্রিয়া, সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য

    ই-পাসপোর্ট হল আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ডিজিটাল পাসপোর্ট যা আপনার ভ্রমণ নিরাপদ, দ্রুত এবং সহজ করে তোলে। এটি সাধারণ পাসপোর্টের মতোই একটি ভ্রমণ ডকুমেন্ট, তবে এতে একটি চিপ থাকে যা যাত্রীর তথ্য সুরক্ষিত রাখে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় দ্রুত পাসপোর্ট যাচাইয়ের সুবিধা প্রদান করে। ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন, ফি পরিশোধ এবং পাসপোর্ট ট্র্যাকিং সম্ভব…

  • বাংলাদেশের বিভাগ ও জেলা সমূহ

    বাংলাদেশের বিভাগ হল একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক একক। বাংলাদেশ বিভাগ হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের ডিক্লারেশনের মাধ্যমে, যা স্বাধীনতা যুদ্ধের পরের দিনে ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে সারাদেশকে প্রাদেশিক একতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় ভাগ করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমানে ৮টি বিভাগ রয়েছে, যা হলো: প্রতিটি বিভাগের আওতাধীনে একাধিক জেলা অবস্থিত থাকে, যেগুলোকে নামগ্রহণ…

  • আমনুরা জংশন

    পঞ্চাশের দশকে ঐতিহাসিক আমনুরা জংশন।.১৯০৯ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে গোদাগাড়ী ঘাট – আমনুরা – রহনপুর – সিঙ্গাবাদ – মালদা মিটার গেজ সেকশন চালু করে কাটিহার ব্রাঞ্চ রেলওয়ে আন্ডারে । শিয়ালদা থেকে পদ্মার দক্ষিণ পাড়ের লালগোলা ঘাট ব্রডগেজ ট্রেনে এসে রেল ফেরি কর ঘাট পার হয়ে, পদ্মার উত্তর পাড়ে গোদাগাড়ী ঘাটে অপেক্ষমাণ মিটার গেজ ট্রেনে চড়ে…

  • বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে ৪২ দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমন

    বাংলাদেশী পাসপোর্ট দিয়ে কোনও ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন যে দেশগুলিতে (NO VISA REQUIRED or NVR Countries with Bangladeshi Passport)ভিসা ছাড়াও যে বিশ্বের অনেকগুলো দেশে যাওয়া যায়, তা হয়তো অনেকেই জানেন। তবে বাংলাদেশী পাসপোর্ট থাকলেই আপনি কোনো ধরনের ভিসার ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাবেন ২০টি চমৎকার দেশে আর এটি অবশ্যই যেকোনো ট্রাভেলারের জন্য দারুণ সুখবর। তবে ভিসা…

  • ট্রেন ভ্রমনের সময় কোন টিকিটে কি সিটের জন্য কাটবেন?

    ভ্রমনের জন্য আমরা ট্রেনকে অনেকি পছন্দ করি। আসলে ট্রেন ভ্রমনের সময় আমাদের টিকিট কাটার প্রয়োজন হয়। আমরা কি জানি কোন শ্রেণীর কেমন সিট ? না আমরা এই কথা অনেকেই জানি না। আমাদের ট্রেনে ভ্রমনের জন্য এই বিষয় জানা প্রয়োজন । চলুন আজ কিছুটা ধারনা নিই। তাহলে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট ক্রয় করতে ভুল হবেনা। AC_B (এসি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *